মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর শেষ বিদায় ঘিরে পিরোজপুরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়, তিন নারী মিলে তার কবর খুঁড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা হলেও, ঘটনার প্রকৃত চিত্র অনুসন্ধানে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী শারীরিক অসুস্থতায় দীর্ঘ সময় ভুগছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামপুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কবর খোঁড়ার সময় কেবল ওই তিন নারীই সেখানে ছিলেন না। মতিউর রহমান নামের এক গ্রামপুলিশ জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে প্রথমে বাড়ির পাশে কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু মাগরিবের পর একদল লোক তা ভরাট করে ফেলে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুনরায় কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মতিউর রহমান আরও জানান, তিনি সরঞ্জাম আনতে গেলে হেনা পশারী ও অন্য দুই নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং মাটি সরানোর কাজে সহায়তা করেছিলেন। এই ছবিই পরবর্তীতে ভাইরাল হয়, তবে কেবল নারীরাই কবর খুঁড়েছেন এমন দাবি ভিত্তিহীন। আর দাফনের সময়ই বা কারা উপস্থিত ছিলেন।
মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী জানান, শুরুতে পরিবারের বাইরেও অনেক লোকজন ছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যার পর কবর ভরাট ও হুমকির ঘটনায় অনেকে ভয়ে সরে যান। তিনি অভিযোগ করেন, এক পক্ষ এসে হুমকি দিয়েছিল, ‘সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় কবর ভরাট করে দেওয়া হবে।’ রাতের বেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই দাফন সম্পন্ন হয়। হেনা পশারীর দাবি, কবর খোঁড়ার সময় নারীদের সাথে আরও দুইজন ব্যক্তি ছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় জামায়াত নেতাদের পাশাপাশি একাধিক মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এ বিষয়ে বলেন, লাশ দাফন বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না। তাদের মূল আপত্তি ছিল বিতর্কিত একজনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে, যা রাষ্ট্রীয় সম্মাননার পরিপন্থী বলে তারা মনে করেন। সব মিলিয়ে দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে।
Leave a Reply