মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

বান্দরবানে পর্যটকের ঢল, করোনাপরবর্তী সর্বোচ্চ বুকিং হোটেল-মোটেলে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপলক্ষে পাহাড়কন্যা বান্দরবান এখন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণে মুখর। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও কুমিল্লার মতো বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের ভাষ্যমতে, করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর এই প্রথম বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর সব কক্ষ শতভাগ বুকিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। আগের দিন হোটেল–মোটেলে রাত যাপন করা পর্যটকেরা সকালে বিভিন্ন গন্তব্যে বেরিয়ে পড়েছেন।

সকাল থেকেই শহরের মেঘলা, নীলাচল ও চাঁদের গাড়ি স্টেশনে দেখা মিলছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুরান ঢাকা থেকে আসা আলাউদ্দিন নামের এক পর্যটক জানান, ৪৫ জনের বহর নিয়ে তাঁরা পাহাড় ও সমুদ্র ভ্রমণের অংশ হিসেবে বান্দরবানে এসেছেন। নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক ঘুরে রাতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে রংপুর থেকে আসা ১৪ জনের আরেকটি দল ঘুরে দেখছে বগালেক ও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর কর্মীরা জানান, সাধারণত বিকেলের দিকে নীলাচল ও মেঘলায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, ৪৫ জনের একটি দল নিয়ে তাঁরা পাহাড় ও সমুদ্র ঘুরতে এসেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা গেছে। গাড়ি পেতে কাউন্টারে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি। পাহাড় ঘুরে আগামীকাল বুধবার কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে যাবেন তাঁরা। নীলাচলে কথা হয় গাজীপুরের বাসিন্দা রিফাত হোসেনের সঙ্গে।

পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে চরম ব্যস্ততা। চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন জানান, দুপুর পর্যন্ত প্রায় চার শ পর্যটকবাহী গাড়ি দেবতাখুম, নীলগিরি, চিম্বুক, রুমা ও থানচির পথে রওনা হয়েছে। পর্যটকদের তুলনায় জিপ ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেককেই তাৎক্ষণিক গাড়ি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের কোনো কক্ষ খালি নেই এবং নিয়মিত অনুরোধ পেলেও নতুন বুকিং নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হোটেল দি মোরের ব্যবস্থাপক মো. জুবায়ের জানান, শনিবার পর্যন্ত কক্ষ পূর্ণ থাকার পর ২৫ ও ২৬ অক্টোবর কিছুটা চাপ কমলেও ২৭ তারিখ থেকে মাসের শেষ অব্দি আবারও শতভাগ বুকিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর ছাড়াও রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় আড়াই শ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক পর্যটককে কাঙ্ক্ষিত আবাসন দেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত যাপনের ব্যবস্থা আছে।

জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) গোপা বিশ্বাস জানান, দুর্গাপূজার ঠিক পরপরই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা উৎসব শুরু হওয়ায় পর্যটকদের এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা উৎসব উদযাপিত হবে। এই উৎসব এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি মিলে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পাহাড়ে পর্যটকদের এই মেলা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর