মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তারের পরিবার রয়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রায় ১৫ দিন আগেও তার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন সুইটি তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, দুই মাস পরই সে বাড়ি ফিরবে। অথচ এখন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তারা জানতে পারছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তার মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়।

প্রায় চার বছর আগে ধার-দেনা করে সুইটিকে সৌদি আরবে পাঠান তার বাবা ফজল মিয়া। প্রথম পাঁচ মাস নিয়মিত টাকা পাঠালেও এরপরই সুইটি ফোন করে পরিবারকে জানায় যে, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সুইটির ভাষ্যমতে, মক্কায় অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর তার কোনো খোঁজ না পাওয়ার পর ১৫ দিন আগে ফের ফোন করে মেয়ে। কিন্তু সেই কলে বিচারের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি সে, বরং দ্রুত মুক্তির আশা প্রকাশ করেছিল। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’।

সুইটির বাবা ফজল মিয়া জানান, বর্তমানে তার মেয়ে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, এ নিয়ে পরিবার কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি। তাদের দাবি, সরকারি কোনো পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত মেয়েটির ভাগ্যের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তিনি কেবল মানুষের মুখে শোনা উড়ো খবরের ওপর ভিত্তি করে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো সূত্র থেকে তাদের কাছে সুইটির বিষয়ে কোনো তথ্য আসেনি। পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল সত্যটি জানতে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। জীবিকার সন্ধানে ধার করে পাঠানো সেই মেয়েকে নিয়ে এখন তারা অজানা শঙ্কা ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর