মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম সরকারি সফরে জাপানে যাচ্ছেন তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর এই চার দিনব্যাপী দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ঢাকা ও টোকিও থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের নানা দিক তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব জানান, সফরকালে ২৭শে অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন সানায়ে তাকাইচি। সফরের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ. কে. এম শহীদুল করিম এবং রাষ্ট্রাচার প্রধান এ. এফ. এম. জাহিদ-উল-ইসলাম। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া জাপানের সঙ্গে ঢাকার মিত্রতা ঐতিহাসিক। বর্তমানে এই কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশ কাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জাপানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সফরে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের বাজার বিস্তৃতকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কারখানা স্থাপনে জাপানের সমর্থন চাওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য সম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, পরিবেশ রক্ষা, ডিজিটাল রূপান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন, জাইকা (JICA)-র প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (JBIC) গভর্নর, জেট্রো (JETRO)-র সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। শিল্প ও জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি নাগোয়ায় টয়োটার অটোমোবাইল কারখানা এবং চিবা প্রিফেকচারের কুতসু শহরের এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বাইরেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে দুই শীর্ষ নেতা মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত সমাধানে যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়েও টোকিওর সহযোগিতা চাওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর