সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

শরীয়তপুরে এমপির নেতৃত্বে ইলিশ রক্ষা অভিযান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মা ইলিশ রক্ষার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে হামলার মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা। সোমবার ভোরের দিকে পদ্মা নদীর পালেরচর ইউনিয়নের কলিকাল চরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযানে শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ নেতৃত্ব দেন। হামলার সময় ইটপাটকেলের আঘাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। আমরা আজকের অভিযান থেকে ৪১ জনকে আটক করেছি। ইলিশ কিনতে দিন-রাত ক্রেতাদের ভিড়ও হচ্ছে। আজ ভোরে তাঁর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের শফি কাজীর মোড় এলাকা থেকে পদ্মা নদীতে অভিযান শুরু করেন। কয়েকজন জেলেকে নদীর চরের মধ্যে ঘিরে রাখা হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযানকালে শতখানেক জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে।

সে সময় ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে স্পিডবোটে ছিলেন সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানে প্রায় দুই লাখ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়েছে। তখন সেখানে আমাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় সারাদেশে নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ সময় ইলিশ ধরা, মজুত, পরিবহন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুরে নিবন্ধিত ৩৩ হাজার জেলের মধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জন ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে এসব জেলেদের প্রতিজনকে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছে মৎস্য বিভাগ। তাঁরা ফিরে এলে প্রকৃত ঘটনা বিস্তারিত জানা যাবে। তাঁদের মধ্যে ইলিশ শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন।

সহায়তা পাওয়ার পরেও জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসাধু জেলেরা আইন অমান্য করে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার অন্তত ২৫টি নদীতীরবর্তী স্থানে হরহামেশাই ইলিশ বেচাকেনা চলছে। মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি সত্ত্বেও এই প্রবণতা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না।

অভিযান সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত ১০ দিনে ২০টি অভিযানে মোট ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, এই একই লক্ষ্য নিয়ে রবিবার চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদও মেঘনা নদীতে সরাসরি অভিযানে অংশ নেন। তিনি স্পিডবোট নিয়ে নদী টহল দেওয়ার সময় বেশ কিছু নৌকা ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেন এবং জেলেদের নদীতে না নামার কঠোর বার্তা দেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর