সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

চুয়েটে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করলেন শিক্ষার্থীরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। সোমবার সকালে নিয়োগের ২১ দিন পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তবে উপাচার্যের এই আগমনে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও উপাচার্য ভেতরে থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন বলেন, উপাচার্য তাদের তালা ভেঙে ঢুকেছেন, কিন্তু তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তাকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাও ভেতরে আটকা পড়েছেন, যাদের মধ্যে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন অন্যতম। তাদের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টাকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসাইন এবং শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার মধ্যে বাগবিতণ্ডা তৈরি হলেও পরে তা শান্ত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি কোনো দাপ্তরিক কাজ করেননি এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় আছেন যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত দাবি করেন, তারা উপাচার্যকে দপ্তরে প্রবেশের সহযোগিতা করেছেন এবং তাকে কাজ করার সুযোগ দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী স্পষ্ট করেছেন যে, তারা নতুন উপাচার্যকে কোনোভাবেই মেনে নেননি। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করছেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিকালের দিকে চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক-কর্মকর্তা সমিতির সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর