বর্তমান সময়ে ছবি, ভিডিও কিংবা গানের মতো সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরির জন্য ‘জেনারেটিভ এআই’ বা তৈরিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেশ পরিচিত নাম। আগে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পেশাদার শিল্পী এবং ব্যয়বহুল সফটওয়্যার বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হতো, কিন্তু এখন কেবল একটি টেক্সট প্রম্পট বা বর্ণনার মাধ্যমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এসব তৈরি করা যাচ্ছে। প্রযুক্তিটির এই সহজলভ্যতা সৃজনশীলতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেও এর একটি নেতিবাচক দিকও সামনে এসেছে।
প্রযুক্তির এই সুবিধা অনেকে অপব্যবহার করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এআই ব্যবহার করে অভিজ্ঞ শিল্পীদের নিজস্ব শৈলী বা স্টাইল হুবহু নকল করা হচ্ছে এবং তা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে শিল্পী সমাজে কপিরাইট লঙ্ঘনের মতো গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, অনেক দেশে এআই টুলগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পর্যন্ত শুরু হয়েছে।
এসব বিতর্কের মাঝে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আসল শিল্পীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে? প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে কেবল নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। এআই মূলত একটি আধুনিক হাতিয়ার, যা শিল্পীদের কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিতে পারে; এটি কোনোভাবেই মানুষের সৃজনশীল প্রতিভার প্রতিস্থাপন নয়। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও আইনি সুরক্ষার মাধ্যমেই সৃজনশীল জগতের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
Leave a Reply