ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বুধবার গভীর রাতে আঘাত হেনেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির মূল অংশের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশসহ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। পরবর্তী ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ দ্রুত গতিতে স্থলভাগে প্রবেশ করে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার আকারে তা সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রমকারী এই ঝড়ের তাণ্ডব পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসবে এবং এই আঘাত হানার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া পরবর্তী তিন ঘণ্টা ধরে চলবে। ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার আগেই বড় ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয় অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকার।
প্রবল বাতাসের সাথে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড় পরিস্থিতির কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরসহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝড়ের গতিপথের ওপর ভিত্তি করে হায়দরাবাদ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ এবং গোরখপুরেও বিমান চলাচলে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পুরো রাজ্যে ২ হাজার ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ চলাকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে পুরো রাজ্যে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
Leave a Reply