ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, রিয়াদ থেকে শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়াহিয়া সারির দাবি অনুযায়ী, হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাবিগ তেল শোধনাগার, রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এছাড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতিদের এসব দাবির সত্যতা অন্য কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হওয়া সেই বৈঠকে উভয় পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে হুতি-সৌদি সংঘাত নিরসনের বিষয়ে একমত হয়েছিল। আলোচনা থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাস্তবে সীমান্তে হামলা ও পাল্টা হামলার চিত্র অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হুতিদের এই দাবির আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার আগে রিয়াদ, আল-খারজ প্রদেশ এবং নাজরান শহরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতের তীব্রতা সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে।
Leave a Reply