বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

ভোজ্য তেলের দাম লিটারে আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): দেশের বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। আসন্ন রোজার আগেই এই দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর আগে গত দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। নতুন করে এই মূল্যবৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য রয়েছে ২০৪ টাকা, যা বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে তারা। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যখন এক লিটার বোতলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। এখন সেই দাম বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করতে চায় কোম্পানিগুলো।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২৫ অক্টোবর থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে এখনো কোনো সম্মতি দেয়নি।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, দেশের ভোজ্যতেল বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র চার থেকে পাঁচটি বড় কোম্পানি। বাকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চাহিদা ছোট কোম্পানিগুলো পূরণ করে থাকে। ওই বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে সরবরাহ করে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে দাম বাড়িয়ে নেয়। অতীতেও একই কৌশল অবলম্বন করে সিন্ডিকেটটি মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি করা হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর