শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন

টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১, আহত ৫২৭

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় ‘চাম্পি’র আঘাতে বিধ্বস্ত তাইওয়ান। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার পর ঝড়টি জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। দুর্যোগের ফলে লিউকিউ দ্বীপের অদূরে বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ৫২৭ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আবহাওয়া প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একসময়ের সুপার টাইফুন থেকে বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়ের কেন্দ্রস্থলের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় এখনো প্রায় ১২৬ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাইওয়ানের আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, একসময়ের সুপার টাইফুন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের এই বছরের অন্যতম শক্তিশালী এই ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হলেও এর কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এখনো প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) বেগে দমকা।

ঝড়টির প্রভাবে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘তাইপাওয়ার’ জানিয়েছে, দুর্যোগের চরম মুহূর্তে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ২৪২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যদিও শুক্রবার প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিলের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম, তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।

ঝড়টি বর্তমানে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকেও ধাবিত হতে পারে। টাইপেসহ দেশটির উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস-আদালত ও স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাসে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে এখনো থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ভোরে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার পর ঝড়টি বর্তমানে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দূরে অবস্থান করছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় তাইওয়ান বরাবরই অত্যন্ত সতর্ক ও সুসজ্জিত অবস্থানে থাকে, যে কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে ঝড়ের দাপট বেশি থাকলেও, শরৎকালের এই সময়ের প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হলো। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। গ্রীষ্মকালে টাইফুনের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও মাঝে মাঝে শরৎকালেও এমন শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়ে দেশটি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর