শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতি: তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে তিনি এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তরুণ প্রজন্মের সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মোবাইল আসক্তি, মাদক এবং হতাশার কবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি অ্যাথলেটিক্সকে সব খেলার জননী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এখানে অ্যাথলেটদের গতি, সহনশীলতা ও শৃঙ্খলার প্রকৃত পরীক্ষা হয়, যার ভিত্তি মজবুত হলে অন্য ক্রীড়াখাতেও সাফল্য আসবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। এটির ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

খেলাধুলাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের পতাকার জয়ধ্বনি পুরো জাতির জন্য গর্বের উৎস। তিনি বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে। তখন আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি। এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন উদ্দীপনার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তৃণমূলে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সরকার এখন প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ নিশ্চিত করা, স্পোর্টস কার্ড ও অ্যালাউন্স প্রদান এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি অবৈধভাবে দখল হওয়া মাঠ উদ্ধারের পাশাপাশি নতুন মাঠ চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে মেধাবী অ্যাথলেটদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

এই প্রতিযোগিতার নাম বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করায় তার আত্মার শান্তি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার আগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয় এবং সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন। এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭ টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।

এর আগে বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা (নারী ও পুরুষ) উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর