শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। তবে এই সাজা কার্যকরের আগে বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তথ্য জানতে পেরে বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দাস্থ কনস্যুলেটের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করে সৌদি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করার পর সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। অপরাধের প্রকৃতি ও মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিচারক এই দণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাভ এবং রাজকীয় আদেশ জারির মাধ্যমে সাজা কার্যকর নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়।

অনানুষ্ঠানিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জেদ্দার একটি আদালতে কয়েক মাস ধরে এই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছিল। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছিলেন। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় সরকার যেকোনো অপরাধ বরদাশত না করার বিষয়ে অটল এবং শরিয়াহ আইন প্রয়োগে বদ্ধপরিকর।

এদিকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—উভয় দেশই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদের নিয়ম অনুসারে, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক আটক হলে এবং তিনি অনুরোধ জানালে, বিষয়টির দ্রুত অবহিতকরণ ও কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া আটককারী দেশের দায়িত্ব। তবে এই দুই বাংলাদেশি নাগরিক কনস্যুলেটকে বার্তা দেওয়ার জন্য কোনো আকুতি জানিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মতে, আটক দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড যেভাবে এত দ্রুত কার্যকর করা হলো, তা অস্বাভাবিক। তা ছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে কেন তাদের স্বজন বা তারা নিজে কনস্যুলেটে কোনো যোগাযোগ করেননি, তা রহস্য তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থান কত দিনের ছিল, পেশাগত তথ্য কী এবং আইনি লড়াই ও আপিলের সঠিক সুযোগ তাঁরা পেয়েছিলেন কি না, এসব প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর