মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে বাংকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। এর ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বিশেষ নিরাপত্তার খাতিরে কঠোর সুরক্ষিত ও বাংকার সুবিধা রয়েছে এমন একাধিক প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল, এরপর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। তার সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাকে এমন কয়েকটি প্রাসাদের মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেগুলো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং বাংকার সুবিধাসম্পন্ন। হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। হামলায় অঙ্গহানির শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা চালানো হয়েছে এবং সপ্তাহান্তের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর আগে ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমানে সৌদি বাহিনীর গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে হুতিরা নতুন করে এই আক্রমণাত্মক কার্যক্রম শুরু করে। এই হামলায় এক ২৮ বছর বয়সী মিসরীয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে তেহরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং শুধুমাত্র ইসরাইলকেই সুবিধা দেবে।

সংঘাত নিরসনে রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামরিক বলপ্রয়োগের চেয়ে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সৌদি ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে তেহরানের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করলে হুতিদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ শুরু হয়। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের জেরে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ায় নতুন করে সংকট ঘনীভূত হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর