সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের কর্মীদের ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এয়ার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন ৩১টি দেশের পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের ওপর দেশটির আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই তালিকায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তেল আবিবের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কোনো কর্মী ইসরাইলি আকাশসীমায় প্রবেশ কিংবা সেখানে অবতরণ করতে পারবেন না।

তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, ব্রুনাই, কলম্বিয়া, কোমোরোস, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মৌরিতানিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এর ফলে এসব দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ফরাসি কর্মীরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর মতো যে দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, তাদের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য নয়।

এয়ার ফ্রান্স তাদের অভ্যন্তরীণ এক নোটে কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা আর ইসরাইলি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সব কর্মীকে তাদের দ্বিতীয় জাতীয়তার তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এই আদেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেয়া হয়েছে। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই-তেল আবিব রুটে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার কথিত চেষ্টার প্রেক্ষাপটে ১লা অক্টোবর ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই কঠোর নির্দেশনা জারি করে। এ ঘটনার পর থেকেই ইসরাইল তাদের আকাশপথ ও বিমান চলাচলে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু করে।

ইসরাইলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত বৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করছে। এদিকে, জাতীয়তাভিত্তিক এই বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের কারণে এয়ার ফ্রান্স ফ্রান্সে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটির অধিকারকর্মী ও রাজনীতিকদের মতে, এটি ফরাসি শ্রম আইন ও বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী, যা কোম্পানিটিকে বড় ধরনের আইনি সংকটে ফেলতে পারে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিয়ে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা গন্তব্যস্থলের নির্ধারিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নিয়মকানুন মানতে বাধ্য।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর