মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের এলপিজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সকালের পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তার কাছে আজ ২০০টি সিলিন্ডারের চাহিদা বা অর্ডার থাকলেও কোম্পানি থেকে মাত্র ৫০টি সরবরাহ করা হয়েছে। একদিকে সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতি, অন্যদিকে গ্রাহকদের লাগাতার ফোন কল সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। এদিকে আমার কাস্টমার একটার পর একটা কল দিচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। বেশ কিছু দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের এই সংকট চলছে বলে জানান রবিউল ইসলাম।

মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই নগণ্য। ধানমন্ডির শংকরের ‘দিপু এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী নাহিদ ইসলাম জানান, তার প্রতিদিনের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০টি হলেও আজ পেয়েছেন মাত্র ২০টি। ফলে অধিকাংশ ক্রেতার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমার দৈনিক সিলেন্ডারের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০টা।

গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তবে রাজধানীর খুচরা বাজারে এই নির্ধারিত দাম মানা হচ্ছে না। ক্রেতাদের প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ পাচ্ছেন, বাকিরা ফিরে যাচ্ছেন।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে মোহাম্মদপুরের ‘বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’-এর মতো দোকানগুলোতেও একই চিত্র। দোকানের কর্মচারী সাগর হোসেন জানান, ১২ কেজির ৪০টি সিলিন্ডারের অর্ডার থাকার বিপরীতে সরবরাহকারী গাড়ি থেকে মাত্র ২০টি সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। একই অবস্থা ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও, যা ৬ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ কেজির সিলিন্ডার বোতলসহ ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের একটি ঘোষণার কারণে। নিজেদের দাবি দাওয়া আদায় ও হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়া হবে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে তাঁরা এই ঘোষণা দেন।

ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের খবরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ধানমন্ডির শংকর এলাকার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম বলেন, তার কাছে থাকা গ্যাসে আর মাত্র দুই-তিন দিন চলার মতো অবস্থা ছিল। কিন্তু দুদিন সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকার খবরে তিনি আগাম সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস না পেলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।

ফার্মগেটের বিক্রেতা মো. হেদায়েতুল্লাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, তিনি এখন কেবল পূর্বের অর্ডারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেটানোর চেষ্টা করছেন এবং নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। ক্রেতারা যেন গ্যাস সংকটে না পড়েন, সেই দুশ্চিন্তায় অনেকেই আগাম সিলিন্ডার সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর