বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি, তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে তরুণ পেশাজীবীদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ এবং ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি একযোগে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডেভেলপমেন্ট ইন প্র্যাকটিস ২০২৬’ শীর্ষক মাসব্যাপী একটি এক্সিকিউটিভ কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মূলত ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা তরুণ পেশাজীবী, উন্নয়নকর্মী এবং গবেষকদের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ পাঠ্যক্রমটি সাজানো হয়েছে, যা মূলত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পরিচালিত হবে।
এই প্রশিক্ষণ কোর্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও প্রথিতযশা সমাজবিজ্ঞানীরা সেশন পরিচালনা করবেন। পাঠ্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্লাসরুমভিত্তিক তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে গিয়ে টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের মতো বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার সুযোগ। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি দুই দিনের ফিল্ড ভিজিটের সুযোগ পাবেন।
কোর্সটিতে অংশ নেওয়া উন্নয়ন গবেষক মো. লাবিব তাজওয়ান উৎসব বলেন, শ্রেণিকক্ষে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে দুই দিনের ফিল্ড ভিজিট তার পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মাঠপর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সামলে মানুষের লড়াই এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা তার চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। তার মতে, ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা যেকোনো তরুণ পেশাজীবীর জন্য এই কোর্সটি একটি অনন্য মাইলফলক হতে পারে। থিওরি ও প্র্যাকটিসের এই দারুণ মেলবন্ধন আমার পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সমৃদ্ধ করেছে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য কোর্সটি আংশিক স্পনসর করা হয়েছে, যার ফলে তরুণ পেশাজীবীরা সাশ্রয়ী খরচে এবং বৃত্তি সহায়তায় এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, পাঠ্যসূচি এবং অনলাইনে আবেদনের ফরম ফ্রেন্ডশিপ একাডেমির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চশিক্ষায় ব্যবহারিক শিক্ষার এমন উদ্যোগ তরুণ উন্নয়নকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলমান অন্যান্য খবরের মধ্যে রয়েছে স্নাতক ভিন্ন বিষয়ে হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিকে ইংরেজি ও গণিত পড়ানো ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে গত এক বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ কমে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গবেষণার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে, যার আবেদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ১ বছরে ৪ লাখ, বেড়েছে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে।
Leave a Reply