শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

ঢাকার যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে ও রিং রোডের সমন্বিত মহাপরিকল্পনা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যানজট নিরসনে সাবওয়ে, ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের ব্যাপক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে গতিশীল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা ও পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির’ প্রথম বৈঠকের কার্যপত্রে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা যানজট বহুমাত্রিক হারে হ্রাস পাবে এবং দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ জন্য প্রকল্প ডেলিভারি টিমও গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিশাল সংযোগ

ঢাকার উত্তরাঞ্চল এবং আশুলিয়া, নবীনগর ও সাভার ইপিজেড সংলগ্ন শিল্প এলাকার স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বজায় রাখতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া হয়ে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেগা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। কার্যপত্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫০ শতাংশে। এ ছাড়া প্রকল্পের সুবিধার্থে ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস লেন ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সর্বসাধারণ ও যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। চীনের শতভাগ অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সেতু বিভাগ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যপত্র অনুযায়ী, যমুনা সেতু চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত টোল বাবদ ১০ হাজার ২৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২২ সালের জুনে চালু হওয়া পদ্মা সেতু থেকে একই সময় পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া কর্ণফুলী টানেল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত টোল এসেছে ১১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সাভার ইপিজেড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন এলিভেটেড সড়ক তৈরি হবে। অন্যদিকে, ঢাকার যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প হিসেবে পরিচিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯ ৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন র‍্যাম্পসহ এই প্রকল্পটির সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এবং সংযোগকারী র‍্যাম্পগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হলে ঢাকা শহরে মোট ৪৭ কিলোমিটার নতুন সড়ক যুক্ত হবে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার দোতলা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬৬০ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) ঋণ ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি প্রধানত তিনটি পৃথক ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপের ভৌত অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত তৃতীয় ধাপের ভৌত অগ্রগতি ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে ৭৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এদিকে, প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ, বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ধাপের ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপের ৮৬ দশমিক ০২ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপের ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে ও ইনার সার্কুলার রিং রোড

রাজধানীর চারপাশে সুসংগঠিত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিয়াপুর থেকে শুরু হয়ে সাভারের নিমতলী, কেরানীগঞ্জ, হাসনাবাদ, শহরের কদমতলী এবং ফতুল্লা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে গিয়ে যুক্ত হবে। এই রুটে সংযোগ তৈরি হলে এন-৫, এন-৮ ও এন-১ জাতীয় মহাসড়কের যানবাহন শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ না করেই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এর পাশাপাশি ঢাকার চারপাশে ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৪ সালে সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রস্তাবিত রিং রোডের প্রায় ২৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার অংশ উড়ালসড়ক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশন নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

২৫৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নেটওয়ার্কের বড় পরিকল্পনা

ঢাকা শহরের ভবিষ্যৎ গণপরিবহন চাহিদাকে সামনে রেখে মোট ১২টি রুটে ২৫৮ কিলোমিটার সাবওয়ে বা ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে সাবওয়ে নির্মাণের বিষদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত পথগুলোর মধ্যে রুট ‘বি’-এর মোট দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার। গাবতলী থেকে বিসিএসএওএইচএস-ঢেলনা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নির্দিষ্ট রুটে ১৪টি আধুনিক ভূগর্ভস্থ স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ঢাকায় ২৫৮ কিলোমিটার সাবওয়ের পরিকল্পনা। এর মধ্যে রুট ‘ও’-এর দৈর্ঘ্য ৩৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার।

উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলে নতুন সেতুর মাধ্যমে যোগসূত্র

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দুই তলা বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এর পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর পাশে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে দুই লেনের দ্বিতীয় একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিক, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা জোরদারে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কচুয়া-বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুর ও মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু তৈরির আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। এই সংক্রান্ত কাজ ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে গতি পায়। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কচুয়া-বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৬৯০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

মেঘনা নদী, ভোলার সংযোগ ও পরিচ্ছন্ন শক্তি উদ্যোগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের অতিরিক্ত যানবাহনের তীব্র চাপ কমাতে মেঘনা নদীর বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে একাধিক বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে। ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২০ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। এই সেতু তৈরি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের সঙ্গে ঢাকা ও আশপাশের জেলার সরাসরি পথ খুলে যাবে। পাশাপাশি শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও শেষ হয়েছে, যা বাস্তবায়নে জাপান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রয়েছে।

দ্বীপ জেলা ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে বরিশাল-ভোলা সেতুর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ও সড়ক যোগাযোগের পথ সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বে সমাপ্ত সমীক্ষাটি সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের আওতায় নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল সরকারি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ভোলা সেতু প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভোলাকে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করতে বরিশাল-রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা বিকল্প সড়ক রুটও মূল পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

শুধু সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এলাকায় ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট এবং সেতু ভবনের ছাদে ২৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল) এলাকায় ৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বসাতে প্রাপ্ত দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মহাখালীর সেতু ভবন প্রাঙ্গণে ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর কাজ চলছে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষ আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন সাইট অফিস ও মেগা প্রকল্পে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮২০টি চারা রোপণের রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৭৪৭টি গাছ সফলভাবে রোপণ করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর