বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

ঢাকা, ১২ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘরে ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে তা দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন সময়ে মূর্তি ও ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব আন্দোলনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।’

বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী বলেন, ‘যে আন্দোলনের অন্যতম একটি ধারা ছিল মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরোধিতা, সেই আন্দোলনের স্মৃতি ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে তা অত্যন্ত সাংঘর্ষিক ও পরিহাসমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য ভাস্কর্য স্থাপন অপরিহার্য নয়। বরং আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, পোস্টার, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, দলিলপত্র, শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে আরও বাস্তবসম্মত ও তথ্যনির্ভরভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব।’

তারা আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস। তাই এই ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। হেফাজতে ইসলামসহ সব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে উপজীব্য করে নির্মিত ভাস্কর্যসহ অন্যান্য ভাস্কর্য দ্রুত অপসারণ করতে হবে।’ একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অবদান যথাযথভাবে ইতিহাসে সংরক্ষণের আহ্বানও জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, সহসভাপতি মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক মুফতি এনায়েতুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রিজওয়ান রফীকী, বাইতুল মাল সম্পাদক মুফতি আরিফ জব্বার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুফতি সালমান ফারসী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি আবূ মুহাম্মদ রহমানী, মুফতি ইসমাইল বুখারীসহ অন্যরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর