আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০১ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ এখন মাদকের অভয়ারণ্য। সেই সাথে চলছে জুয়া ও ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা। এ সবের নেই কোন কার্যকর প্রতিরোধের ব্যবস্থা। নাকের ডগায় ওইসব কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মাদক বেচাকেনা এখন ওপেন সিক্রেট। প্রায় সকল হাট-বাজার ও বন্দরগুলিতেই দেধারছে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, টর্পেন্ডাল,গাঁজা ও চোলাই মদের পাশাপাশি জুয়া ও ক্যাসিনোর জমজমাট ব্যবসা। মাদক ও ক্যাসিনো নেশায় যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার খোদ পৌর এলাকার অলিতে-গলিতে সন্ধ্যা হলেই মাদক বিক্রির উৎসব লেগে যায়। এমনকি দিনের বেলাতেও ওইসব বেচা-কেনা চোখে পড়ে।
বেশ কিছু বাড়িতে বসে জুয়ার আড্ডা,ক্যাসিনো চলে প্রকাশ্যে-অথচ প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই। সম্প্রতি উপজেলার ১৩ নং রামনাথপুর ইউনিয়নের কালসার ডারা বাজারে সন্ধ্যা হলেই চলছে মাদকের রমরমা কারবার। এলাকার প্রভাবশালীদের মদদে প্রকাশ্যে চলে মাদক বেচা-কেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানালেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের দাপুটে কিছু স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এখন ঐ মাদক বেচাকেনায় জড়িত রয়েছে। তাঁরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে জানান। ওই চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। চক্রের ছত্র ছায়ায় সেখানে রাতের বেলা চলে জুয়ার আসর।
এদিকে উপজেলার ১ নং চৈত্রকোল ইউনিয়নের করতোয়া নদির ধারে পাড় বোয়ালমারী গ্রামের কাঁশবন এলাকায় চলে দিন-রাত ছয়গুটির জুয়ার আসর। কুখ্যাত জুয়াড়ু আতোয়ারের নেতৃত্বে চলে জুয়া খেলা। স্থানটি পীরগঞ্জ থানার বিচ্ছিন্ন গ্রাম ও নদির অপর প্রান্তে হওয়ায় এবং নবাবগঞ্জ থানার সীমানার বাইরে হবার সুযোগে নিরাপদে চলে জুয়ার আসর। ওই এলাকায় প্রশাসন কিংবা কোন সাংবাদিক নিরাপদে যেতে পারেন না,তাঁদেরকে উল্টো হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়। এলাকাবাসী জানান, ওই জুয়া বন্ধে প্রয়োজন যৌথবাহিনীর শক্তিশালী অভিযান। তাহলেই পুরো গ্যাং আটক করা সম্ভব হবে বলে জানালেন এলাকাবাসী।
উপজেলার মাদারগঞ্জ হাটে সন্ধ্যার পরপরই শুরু হয় মাদক বেচা-কেনা। সন্ধ্যার পরপরই ছাগলহাটীতে গিয়ে হর্ণ বাজালেই বেরিয়ে আসে মাদক বিক্রেতারা,তারা নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করে প্রকৃত গ্রাহক নিশ্চিত হয়ে মাদক বিক্রি করে। ওই ইউনিয়নের জনৈক ওয়ার্ড মেম্বারের নেতৃত্বে চলে জুয়ার আসর। এ ছাড়াও ওই এলাকা থেকে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ সময় আলামত হিসেবে তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, দুইটি কম্পিউটার মনিটর, একটি সিপিইউ, ১৩টি স্মার্টফোন ও ২৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
উপজেলার এমন আরও ভিন্ন ভিন্ন স্পট রয়েছে যেখানে চলে জুয়া ও মাদকের ব্যবসা। পুলিশ প্রশাসনের পরোক্ষ ছত্রছায়ায় ওই সব আসর চালিত হয় বলে জানা গেছে। মাদক ও জুয়ার কোন সংবাদ পরিবেশন করলেও প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়,এমনকি জীবননাশের হুমকিও দেয়া হয়। অবিলম্বে এ সকল চিহ্নিত অপরাধিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান এলকাবাসি।
Leave a Reply