বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি আপাদমস্তক একজন ক্রীড়াসংগঠক : রুহুল কবির রিজভী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন

ঢাকা, ১২ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ক্রীড়াসংগঠক। ক্রীড়াবিদরা যেন এটাকে তার পেশা হিসেবে নিতে পারে এবং এটা দিয়েই তার জীবন-জীবিকা হবে, এই ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকার করবে- এমনই কাজ করেছেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে কোকোর অবদান স্মরণ করে রিজভী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো তার জীবনে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি চেয়েছেন ক্রীড়াবিদরা যাতে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকার করবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং এর মাধ্যমে কোকোর ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে আশা করেন রিজভী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে আছেন। আমি মনে করি, তিনি অত্যন্ত যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এখানে তার (কোকো) যে কাজগুলো, সেই কাজগুলো সুসম্পন্ন করবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।’

মরহুম কোকোর স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ দেশে আনার সময় তার মা বেগম খালেদা জিয়া বন্দি ছিলেন। তাকে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল।

‘ওই পরিস্থিতিতে মায়ের কোলে সন্তানের লাশ তুলে দেওয়া ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। পৃথিবীর সব বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ-এটি ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ,’ বলেন রিজভী।

রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো বরদাশত করতে পারেননি। তাই তার (জিয়া) পরিবারকে একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছেন। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার এই পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করতে এবং জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা মুছে ফেলতে বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছিল। একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এসব করা হয়েছিল।’

বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই সন্তানও বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অথচ আজ কী হয়েছে? জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। আর তারেক রহমান আজ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনকল্যাণের যেসব কাজ, সেই কাজগুলো তিনি ক্ষমতাসীন হওয়ার শুরু থেকে একের পর এক বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন। এবং তার এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, সেই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান। মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফসহ যারা আত্মদান করেছেন, তাদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগ মহিমান্বিত। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পেছনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরও রক্ত ও আত্মত্যাগ রয়েছে।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু এবং বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর