শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ, ১০৬ রানের লিড বাংলাদেশের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করার পর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকদের টপ অর্ডার ধসে পড়ে। একটা পর্যায়ে মনে হয়েছিল লিড একশো রানের কোটা ছুঁতে পারবে না, তবে জাকের আলি ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ভর করে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান এবং লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। আলোকস্বল্পতার কারণে তৃতীয় দিনের খেলা আগেভাগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আর টাইগাররা লিড নিয়েছে ১০৬ রানের। কিন্তু ক্যারিবীয় স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশ ধাক্কা খায়।

আগের ইনিংসে ৭ রান করা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খোলার আগেই শামার জোসেফের লেগ স্টাম্পের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর শান্ত ও সাদমান জুটি লিড ৫০ পার করলেও ১১তম ওভার থেকে ছন্দপতন ঘটে। চেজের বলে ১৩ রানে বোল্ড হন সাদমান এবং এরপরই হৃদয় কোনো রান না করেই জোসেফের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুলের বদলি হিসেবে নামা জাকের আলির সঙ্গী হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টির কারণে চা বিরতি দেওয়া হয়, যখন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩৪ রান। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার নিজের শূন্য এবং দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফেরেন। ৩০ বলে ১৩ রান করে চেজের বলে বোল্ড হন সাদমান। আগের ইনিংসে ৪২ রানের পর এবার করেন ০। দলের খাতায় আর ১ রান যোগ হতেই মিরপুরে বৃষ্টি নামে। ১০ বলে ৪ রান আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। এর আগে তিনি জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন।

বিরতির পর লিটন কুমার দাস ৪ রান করে ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও ৯ রানে তাকেও ফেরান ওয়ারিকান। এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ১৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আজ শুরু হয়েছিল। তেজনারায়ণ চন্দরপল ১৮৪ বলে ৫৬ রান করে শরিফুল ইসলামের শিকার হন। নাঈম হাসানের অফসুইংয়ে ১০৩ বলে ৪৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসও এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বাংলাদেশের অফস্পিনাররা ক্যারিবীয়দের বাকি ৪ উইকেট দ্রুত তুলে নেন আর হৃদয় এক বল ডিফেন্ড করার পর ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলার চেষ্টায় বড় শট খেলার চেষ্টার করেন। মিরাজকে ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ওয়ারিকান। গ্রিভসও একবার লাইফ পেয়েছেন মুমিনুল সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায়। পরে নাঈমের অফসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে তিনি ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রানে ফিরেছেন।

  1. উইকেটকিপার লিটনের হাতে শামার জোসেফকে ক্যাচ দিয়ে ফেরান নাঈম হাসান।
  2. জোমেল ওয়ারিকানকে নাঈম হাসান এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আউট করেন।
  3. জেইডেন সিলসকে নাঈম হাসানের বল থেকে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মূলত নাঈমের ৪ উইকেট শিকার দলের বোলিংয়ের মূল শক্তি ছিল। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট পান এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম ১টি করে উইকেট নেন। দ্রুততম ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা নাঈম হাসান এদিন ক্যারিবীয়দের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ তিনটি বাউন্ডারি হাঁকালেও মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ১৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ নেমেই তিনটি চার মেরেছেন, তবে ১৫ রানেই তাকে ফিরতে হলো মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর