রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

জামালপুরে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদে কর্মরত থাকা অবস্থায় এক কিশোরীকে নির্যাতনের অপরাধে ইমাম মো. মুছা মিয়াকে (৩৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন, যা ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত মুছা মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায়ের পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মুছা মিয়া (৩৩)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামে। ঘটনার সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। সুযোগ বুঝে ইমাম প্রতিদিন অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে কিশোরীকে আটকে রেখে মসজিদ পরিষ্কারের কাজ করাতেন। এ সময় তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তাকে প্রথমবার নির্যাতন করেন এবং ঘটনাটি গোপন রাখতে হুমকি দেন। পরবর্তীতে একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর তিনি আবারও তাকে নির্যাতন করেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। একপর্যায়ে শিশুটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান।

ভুক্তভোগী কিশোরীর আচরণ ও মানসিক পরিবর্তনে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরে কিশোরী বিস্তারিত জানালে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁদের পরামর্শে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ভুক্তভোগী কিশোরীসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন। এ রায়কে ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর