রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। তাকে স্বাগত জানাবেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। সফরে প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সময় জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন। একই দিন তিনি জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী।

দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান শেষে দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় কৌশলগত অংশীদারত্ব, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী চিবার ফুতসু শহরে জেরা-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করবেন। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।

পাশাপাশি মিৎসুই, সুমিতোমোসহ ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার দুটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিকালে জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি। সন্ধ্যায় দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বুলেট ট্রেনে চড়ে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা এবং টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করবেন। এরপর টোকিও ফিরে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকারসহ আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর এই সফর ব্যবসায়িক আস্থা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজ প্রস্তাব করছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পরিবহণ খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন, মাতারবাড়ীসহ বন্দর উন্নয়নে ৩.১৪ বিলিয়ন, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকসে ১.৫৭ বিলিয়ন এবং জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, কৃষি, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও পর্যটন খাতেও বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিল। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। 3, 45, 14, 1, 57, 26, 940.

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর