ক্রিকেট ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ দেখল রাওয়ালপিন্ডি। স্কোরবোর্ডে ৪২৯ রান করেও পরাজয় এড়াতে পারল না ইংল্যান্ড। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়ের পর এটিই ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ার অন্যতম সেরা নজির। রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জানিত লিয়ানাগের ছক্কায় শ্রীলঙ্কা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে ১ বল হাতে রেখে। ২০০৬ সালে চার শ রানের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ টপকে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচের নাটকীয়তা চরমে ওঠে শেষ ওভারে। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ইংল্যান্ডের বোলার জশ টাং টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন। কিন্তু লিয়ানাগে যখন স্ট্রাইকে আসেন, তখন ২ বলে ৬ রানের কঠিন সমীকরণ ছিল। টাংয়ের ফুল লেন্থ ডেলিভারিটি লং অফ বাউন্ডারির ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে লিয়ানাগে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ২৭ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করে আসেন লিয়ানাগে। টাংয়ের ফুল লেন্থে করা ডেলিভারি সোজা তুলে দেন বোলারের মাথার ওপর দিয়ে, লং অফ বাউন্ডারি দিয়ে ছক্কা।
শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ওপেনিংয়ে আভিস্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকা দুজনই সমান ৯৭ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের মূল প্রাণ ছিলেন চারে নামা পবন রত্নায়েকে, যিনি ১০৬ বলে ১৩০ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। তার এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদেই শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের এই স্মরণীয় জয়ের স্বাদ পায়।
ম্যাচ জয়ের পর শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের বন্যা। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের এই গৌরবময় মুহূর্তে ডাগআউট থেকে খেলোয়াড়রা মাঠে ছুটে আসেন, যা ছিল এক বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
Leave a Reply