মঙ্গলবার আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের সাতটি উইকেট। কিন্তু দিনশেষে স্বাগতিক আফগানিস্তান ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করায় ম্যাচটি ড্র হিসেবে শেষ হয়েছে। পঞ্চম দিনে আফগানরা ১৪২ ওভার ব্যাট করে দৃঢ়তার পরিচয় দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ২৪০ রানে, যেখানে তারা ৮৯.১ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪৭ রান। যদিও জয়ের জন্য তাদের হাতে ছিল পুরো একটি দিন এবং তিনটি উইকেট, যা স্বাগতিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শেষ দিনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আগের দিনগুলোর তুলনায় হতাশাজনক। কয়েক দফা পরিবর্তন হলো ম্যাচের গতিপথ। কিন্তু রানআউট মিস আর ক্যাচ ফেলে বাংলাদেশ যেন ম্যাচও ফেলে দিল। ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র করতে একটি ইতিহাসও গড়েছে আফগানিস্তান।
ম্যাচের শেষ দিনে আফগানিস্তান শুরু করেছিল ৭ উইকেট হাতে নিয়ে এবং ১৩২ রান সংগ্রহ করে। তাদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে ছিলেন ব্যাটাররা, বিশেষ করে পঞ্চম উইকেট জুটিতে তারা ১৪৭ বল মোকাবেলা করেন। ইবাদত হোসেন ৬৯ বলে ৩৩ রান করা ইকরামকে আউট করে বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও সেটি শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট ছিল না। তবে শুরুর দিকে ইকরাম বেশ সাবধানী ছিলেন, কারণ তিনি প্রথম ৪৫ বলে কোনো রানই নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রানে থামে তার এই দীর্ঘ ইনিংস। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল ১২২তম ওভার, যেখানে বাংলাদেশ দুটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে। ইবাদত হোসেনের বলে বাংলাদেশ ব্রেকথ্রু পেলেও, স্বাগতিকদের প্রতিরোধ পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ১৩৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন মুমিনুল হক, যা বাংলাদেশের জন্য শেষ উইকেট শিকার ছিল।
স্বাগতিকদের হয়ে ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে ছিলেন। আট নম্বরে নামা ইয়ামিন আহমাদজাই ৮৫ বল খেলে ১৯ রান নিয়ে ফিরে যান। তবে আফগান ব্যাটারদের মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন শতকধারী একজন ব্যাটার, যিনি ৩৩২ বল মোকাবেলা করে ১১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে শেষ দিনে বাংলাদেশের বোলাররা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ১৪২ ওভার ব্যাটিং করা আফগানদের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭, মুমিনুল হক ৩৯, শান্ত ২৯ এবং লিটন দাস ৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়া নাঈম ৩৫ ও মিরাজ ২৪ রান করেন। আফগানদের পক্ষে আহমাদজাই তিনটি, সালিম চারটি এবং ইসমাত দুটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে আবুধাবির এই টেস্টটি শেষ দিনে নাটকীয় মোড় নিলেও জয়ের হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। অন্তত ইসমাত আলম, সেদিকুল্লাহ অটলদের ব্যাটিং সেটাই বলে। শেষ সেশনে অটলকে ফিরিয়ে তাইজুল ইসলাম সেই আশা আরও বাড়িয়েছিলেন। জীবন পেয়ে বাংলাদেশকে আফসোসে পুড়িয়েছেন আফগান ব্যাটাররা।
Leave a Reply