যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, যেহেতু এটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ, তাই রাজ্যের নামে ‘মেক্সিকো’ থাকা সংগতিপূর্ণ নয়। তার মতে, নাম পরিবর্তনের ফলে ওই অঞ্চলের সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিকদের মধ্যে দেশের প্রতি গর্ব আরও বাড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন এই নাম রাজ্যটির সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং আমেরিকান পতাকাকে সালাম জানানোর সময় নাগরিকরা আগের চেয়ে বেশি গর্ববোধ করবেন। তিনি যোগ করেন, ‘বাসাবাড়ির দাম ও মানুষের আয় বাড়বে এবং আমাদের লাল-সবুজ পতাকাকে।
ভৌগোলিক স্থানের নামে অন্য দেশের উল্লেখ থাকায় ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই তা পরিবর্তনের প্রচার চালিয়ে আসছেন। এর আগেও তিনি মেক্সিকো উপসাগরকে ‘আমেরিকা উপসাগর’ এবং ওন্টারিও হ্রদকে ‘আমেরিকা হ্রদ’ নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সাংবিধানিকভাবে কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে সরাসরি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যের নাম বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগ এবং কেন্দ্রীয় আইনসভার অনুমোদনের মতো জটিল আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ঘিরে নিউ মেক্সিকোর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় রক্ষায় অটল স্থানীয় নেতারা একে একবাক্যে নাকচ করে দিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির স্থানীয় নেতারাও এই ধারণার বিরোধিতা করছেন। গভর্নর মিশেল লুহান গ্রিশামের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে আপসের কোনো সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক এই বার্তাটি তার সেই পুরোনো প্রস্তাবকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাজ্যের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।
আগামী নির্বাচনে লড়াই করা প্রধান দুই প্রার্থীও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড ও রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ হাল কেউই নাম পরিবর্তনের এই দাবিকে সমর্থন জানাননি। বিশেষ করে গ্রেগ হাল গত মাসে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, নিউ মেক্সিকোর কোনো নতুন নামের প্রয়োজন নেই। ঐতিহ্যের প্রশ্নে রাজ্যের প্রায় সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।
Leave a Reply