মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল লেনদেনের তথ্যে কৃষকদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক এবং কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের জন্য নতুন ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএফপিআরআইয়ের (IFPRI) সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই উদ্যোগে সহায়তা দিচ্ছে গেটস ফাউন্ডেশন। এই পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি চলতি অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর লক্ষ্য হলো ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার কৃষক এবং দেড় হাজার কৃষি উপকরণ বিক্রেতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।

প্রকল্পের আওতায় যোগ্যতার ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন—আস্থা, সাফল্য, জীবিকা এবং তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ঋণসেবা ও ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা প্রদান করা হবে। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ অনুমোদন নয়; বরং ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত ও যোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে ঋণ চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের একটি বড় অংশ এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছেন। নিয়মিত আয় বা ব্যবসার দালিলিক প্রমাণ না থাকায় অনেক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ পেতে জটিলতার সম্মুখীন হন এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন। এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে তাদের আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে যোগ্যতা যাচাই সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রাপ্তির পথ সুগম করবে। কিন্তু তাঁদের অনেকেই এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতে নানা বাধার মুখে পড়েন।

আইএফপিআরআই এই প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনা করবে, যার মধ্যে দৈবচয়নভিত্তিক জরিপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গবেষণার উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল আর্থিক সেবা গ্রহণে কৃষকদের অনুপ্রেরণা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এর প্রভাব এবং বৃহত্তর পরিসরে এই মডেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা। এই গবেষণার ফলাফল পরবর্তীতে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। ঋণের কর্মসূচি চালু হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আবদুল মোমেন জানান, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষক ও ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অপরিসীম। ডিজিটাল লেনদেনকে ঋণের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করলে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ব্যাংকের কাছে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির পক্ষে সৈয়দ আবদুল মোমেন এবং আইএফপিআরআইয়ের মহাপরিচালক জোহান সোয়িনেন অংশ নেন। কৃষকের জন্য ডিজিটাল ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গেটস ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি প্রোগ্রাম অফিসার স্নিগ্ধা আলী বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ কৃষকদের জীবনমান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একইভাবে, আইএফপিআরআইয়ের রিসার্চ ফেলো ও প্রকল্পপ্রধান মেহরাব বখতিয়ার মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পথ উন্মোচিত হতে পারে। পাশাপাশি দেশব্যাপী উদ্যোগটি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর