রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও তাদের জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার লক্ষ্যে সরকারি ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার। রাষ্ট্রের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকার এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। অতীতে এ বিষয়ে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বলেছেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তাদের প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হবে। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা কর্মী রাখার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাদের অধিকার সুরক্ষায় সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকৃত প্রতিবন্ধী সংখ্যা নিরূপণে সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান। এছাড়া প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার সুবিবেচনার সঙ্গে বিবেচনা করছে। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’।

গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি নারীদের পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করা হবে। নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের উপযোগী অবকাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; তা না থাকলে নকশা বাতিল করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ সৃষ্টির দাবিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় প্রায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার দিলে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে তা গ্রহণ করেন। এছাড়া তার দলকে বিদেশে খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি মানুষের সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর