জর্জিয়ার ডাল্টনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় ‘মোহাম্মদ’ নামটি নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে যদি কোনো দ্বিধা থাকে, তবে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এতে ওই ব্যক্তির নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। তিনি রসিকতার ছলে যোগ করেন, “হ্যালো, মোহাম্মদ”। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘসময় ধরে এমনটি করছেন এবং কখনো ভুল প্রমাণিত হননি। আমি বহু বছর ধরে এটা করে আসছি এবং আমি কখনোই ভুল প্রমাণিত হইনি।’। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ সবচেয়ে সাধারণ পুরুষ নামগুলোর একটি। মুসলিমরা প্রায়শই ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে তাঁদের ছেলেদের নাম রাখেন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন।
ডাল্টন মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত এই সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না। এ সময় তিনি কাল্পনিকভাবে উপস্থিত ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তিদের কাছে জানতে চান তারা প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না। উল্লেখ্য, মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সমাবেশে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর উপস্থিত সমর্থকদের কাছ থেকে খুব একটা জোরালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ডাল্টনের ওই সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর এই বিদ্রূপাত্মক কথা শুনে তেমন একটা জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটিতে আগ্রাসন চালায়। ওই ঘটনার সাত মাস পর ট্রাম্প আবারও দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অভিযোগ, তিনি ধারাবাহিকভাবে মুসলিম, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করছেন। সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর এবং মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল আল-সায়িদের মতো ব্যক্তিদের নিয়েও তিনি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান ও ফিলিস্তিনপন্থীদের দমনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েছে। অধিকার সংগঠনের কর্মীরা ও মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এ ধরনের কথাবার্তার বারবার সমালোচনা করে আসছে। ইলহান ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধি হিসেবে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন দমন এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
Leave a Reply