যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের যে চেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসন চালিয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে। ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প।
মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যেন ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের ডাকযোগে আসা ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখা হয়। তাদের দাবি ছিল, যারা এই ব্যালটগুলো পাঠিয়েছেন, তারা মার্কিন নাগরিক নন। ট্রাম্পের আশঙ্কা, এসব ব্যালটের মাধ্যমে অভিবাসীরা অবৈধভাবে ভোট দিচ্ছেন, যা কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করতে পারে। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি নিরীক্ষায় অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের আগে সুসংবাদ পেল ডেমোক্র্যাটরা, তবে মিশিগানে বিব্রত। বিভিন্ন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্য সরকারের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অ–মার্কিন নাগরিকসহ ভোটার নন—এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নতুন নয়; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার এই পদ্ধতির সমালোচনা করে আসছেন। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অনেক অঙ্গরাজ্যেই বর্তমানে এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর আগে বেশ কয়েকটি নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছিলেন, ফেডারেল সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে এবং অযথা ফলাফল নিয়ে সংশয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন।
এতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ টিতে ভোট হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আসন আছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ এবং সিনেটে ৫১টি আসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাতেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নাকি সেটা চলে যাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে, তা নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে। এখন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮ ও ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ আসন রয়েছে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের আছে ৫৩ আসন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি আসনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ক্যালিফোর্নিয়ার বিষয়টি নিয়ে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মোট ৫২টি আসন রয়েছে, যা প্রতিনিধি পরিষদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ।
Leave a Reply