শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

জার্মানিতে জেন-জি প্রজন্মের বড় বিক্ষোভ, সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো এবার জার্মানির তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের হাওয়া বইছে। জেন-জি প্রজন্মের আয়োজিত এসব বিক্ষোভ-সমাবেশে শনিবার প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে আশা করছেন সংগঠকরা। মূলত উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিকে কেন্দ্র করেই তরুণরা রাজপথে নেমেছেন।

‘জেন-জেড রেগেল্ট’ বা ‘জেন-জি নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে’—এই ব্যানারে বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট ও মিউনিখসহ জার্মানির ৩৪টি শহরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তরুণদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো। আয়োজকদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে দেশটির তরুণ সমাজ বর্তমানে এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলনের যে ধারা লক্ষ্য করা গেছে, তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটেছিল। আবার ফ্রান্সে একই ধরনের আন্দোলনের সময় ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনা দেখা দিয়েছিল।

হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আশা করা হলেও, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ নিতে পারে বলে প্রশাসন আশঙ্কা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, কিছু উগ্র বামপন্থি এবং বিদেশি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী জনসমর্থন পাওয়ার কৌশলে এই আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন, লুটপাট এবং সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ফ্রান্সকে কোনোভাবেই উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সহিংসতার আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের সুরক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে তরুণদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিই এই অস্থিরতার মূল কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সি তরুণ স্টিভের। তিনি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেজের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় সংকোচন নীতি প্রয়োগ করে তরুণদের ওপর বোঝা চাপানো হচ্ছে, কিন্তু সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী সমাবেশের অধিকার তারা অব্যাহত রাখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে এই আন্দোলনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কারণ এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণ রয়েছে। জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন ‘বিএসকে’ এই আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া দেশটিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকট এবং পেনশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাপের মতো জটিল বিষয়গুলোও অর্থনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর