মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে আড়াই বছর বন্ধ অস্ত্রোপচার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত আড়াই বছর ধরে প্রসূতিসহ সব ধরনের বড় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৫টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে ১৬টি পদই শূন্য। এছাড়া দুজন চিকিৎসক প্রেষণে অন্য হাসপাতালে কর্মরত থাকায় নিয়মিত চিকিৎসকের সংখ্যা এখন ১৭ জন।

হাসপাতালের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (জুনিয়র কনসালট্যান্ট) পদটি আড়াই বছর ধরে খালি। সর্বশেষ দায়িত্বরত তাসলিমা আফরোজ ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই সংকট তৈরি হয়। একই সময় থেকে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদটিও শূন্য রয়েছে, যখন মো. ইফতেখার শামীম নামের চিকিৎসক চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া সার্জারি বিশেষজ্ঞের পদটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। চিকিৎসকের এই ভয়াবহ শূন্যতায় প্রতি মাসে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন প্রসূতি সরকারি খরচে অস্ত্রোপচারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ এ পদে কর্মরত মো. ইফতেখার শামীম ২০২৪ সালের ১৯ মে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সরকারি হাসপাতাল থাইকাও প্রাইভেট ক্লিনিকে যাইতে অয়।

চিকিৎসার সংকটে থাকা রোগীদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপছে।

উপজেলার ভূইয়াকান্দি গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য এসে চিকিৎসক না থাকায় সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। পরে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। একই অবস্থা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবার ক্ষেত্রেও। রেডিওগ্রাফি টেকনোলজিস্টের পদটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শূন্য হওয়ার পর থেকে এক্স-রে সেবা বন্ধ আছে। এছাড়া নষ্ট মেশিনের কারণে প্রায় এক মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও বন্ধ। ফতেপুর গ্রামের অদুদ মিয়া হাতের এক্স-রে করাতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নারী বলেন, ‘পরে ১৫ হাজার টেয়া খরচা কইরা বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনে বাচ্চা অইছে আমার।

হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন এবং ভর্তি থাকেন ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী। কিন্তু অস্ত্রোপচার কক্ষ, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষগুলো তালাবদ্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে অনেক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। চিকিৎসকরা রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, অথচ মূল অপারেশন থিয়েটারের দরজায় তালা ঝুলছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজন কুমার দাস জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর