রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তিতে সরকার কাজ করছে: ইসমাইল জবিউল্লাহ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ সময় দেখুন

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): গণতন্ত্র সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি আধুনিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাসের চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ, যেখানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। সভার মূল আলোচনায় তিনি ১৯৭৫ সালের সেই সংকটময় সময়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এখন গোটা জাতির মূল অঙ্গীকার। দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি যেভাবে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বাংলাদেশের উন্নয়নেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে ইসমাইল জবিউল্লাহ তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দেশপ্রেম ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে উন্নয়নের অঙ্গীকারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশই আমাদের মূল পরিচয় এবং সবার আগে দেশকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর