বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জনের যাবজ্জীবন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এজলাসে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজার বিবরণ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের চার ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ ও জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যান্য আসামিদের সাজা ও খালাস

  • আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • আসামি মজনু মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • আসামি রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • আসামি সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ.

ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ ১০ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি, তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানান তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর