বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

নিহত তৌফিকের পরিবারের পাশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৭ সময় দেখুন

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিহত তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন, আমিন।’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমান জানান, আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই ভাই অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তারা একই পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। চোখের সামনে নিজের ভাইকে হারিয়ে শোকার্ত বড় ভাই জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তৌফিক সংজ্ঞাহীন থাকায় শেষবারের মতো কোনো কথা বলার সুযোগ পাননি তিনি। তিনি আরও লেখেন, ‘দুই এতিম ভাই অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছিল; অত্যন্ত টানাটানির সংসার ছিল তাদের।

নিহত তৌফিকের স্ত্রীর পরিস্থিতি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি জানান, অভাবের কারণে তিনিও একই কারখানায় চাকরি করতেন, কিন্তু ১১ মাস বয়সী সন্তান সিয়ামের জন্মের পর সন্তানের লালন-পালনের জন্য তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পরিবারটির নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি না থাকায় বর্তমানে তারা স্বামীর চাচার একটি ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অসহায়ত্ব দেখে জামায়াত আমির গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শিশু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। পরিবারটির এমন পরিণতি দেখে সত্যিই খুব খারাপ লাগছে।’।

তৌফিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের জন্য বিচার পাওয়া কতটা কঠিন তা জানা নেই, তবুও তারা ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই পরিবারটির পাশে জামায়াতে ইসলামী থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, মুঠোফোনে কথা বলার সময় জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমিরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারটিকে সান্ত্বনা জানান এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে জানি না, তবুও আমরা বিচার চাইব। এই ন্যায্য বিচারটুকু পেলে অন্তত এই বিধ্বস্ত পরিবারটি কিছুটা সান্ত্বনা পাবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর