শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

গোদাগাড়ীতে ইন্টারনেট অচল : ভোগান্তিতে ১৬৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও প্রায় এক মাস ধরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সেবা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। ফলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা প্রদান, তথ্য আদান-প্রদান এবং দাপ্তরিক যোগাযোগসহ অনলাইনভিত্তিক সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের শঙ্কা, দ্রত এই সমস্যার সমাধান না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে মাসিক ১২০০ টাকা খরচে ২০ এমবিপিএস গতির সংযোগ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ টেলিকম ও স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লিমিটেড (এপিসি)’ চুক্তিবদ্ধ হয়। গোদাগাড়ীর ১৬৫টি স্কুলে ক্যাবল লাইন স্থাপন করে সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও কিছুদিন পর থেকেই সংযোগটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

অনলাইন প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখতে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা নিজস্ব অর্থায়নে ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছেন। আবার কোনো কোনো স্কুলে বাড়তি অর্থ খরচ করে স্থানীয় অন্য সরবরাহকারীদের থেকে বিকল্প সংযোগ নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। মহিশালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, সেবা শুরুর দিকে কাজের গতি বাড়লেও গত ১৫ দিন ধরে সংযোগ সচল দেখালেও ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না। জরুরি তথ্য পাঠানো, হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা প্রদান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেতে ব্যক্তিগত ডাটা খরচের বিকল্প থাকছে না। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন শেখেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনসহ গোদাগাড়ী মডেল, আলিপুর, ঘনশ্যামপুর, সারেংপুর, হরিণবিস্কা ও সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লিমিটেডের নেটওয়ার্ক অপারেশন ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম অভিযোগের জবাবে বলেন, “ক্যাবল চুরি ও সার্ভার জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকার দাবিটি সঠিক নয়।” কারিগরি দল নিয়ে তারা জটিলতা নিরসনে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন মুন সুলতানা জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তারা উর্ধোতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। ইডিসি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৮৯টি স্কুলে টানা এক মাস কারিগরি ত্রুটি থাকলেও বাকি ৭৫টি বিদ্যালয়ে গ্রামীণ টেলিকমের সংযোগ সচল রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, সংযোগের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর