বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচে নজিরবিহীন মারামারি, লাল কার্ড ৫৩ জন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। মিনাস গেরাইস অনূর্ধ্ব-২০ রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার লড়াইয়ে মাঠের ভেতর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ভয়াবহ মারামারি হয়। রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে রেকর্ড। ফুটবল–ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এমন ভয়াবহ মারামারি হয়েছে কি না, সেটা সত্যিই গবেষণার বিষয়। মিনাস গেরাইস ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশিত ও রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, মামোরে দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে প্রায় সব কটি লাল কার্ড দেখানো হয়।

ম্যাচটিতে মামোরে ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। তবে মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। রেফারির রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিট পর উবেরলান্দিয়ার খেলোয়াড় লুইকে বিস্পো দো সান্তোস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে প্রথম গোলযোগের সূত্রপাত ঘটে। এরপরই উবেরলান্দিয়ার তিন স্টাফ মাঠে ঢুকে পড়ে রেফারিদের দিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। মামোরের ৩–১ গোলে জয়ের এ ম্যাচে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা।

তাদের পক্ষ থেকে রেফারিকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেওয়া হয় যে, তারা যেন শহর ছেড়ে নিরাপদে বের হতে না পারেন। এমনকি একজন স্টাফ বলেন, ‘তোকে আমি খুন করব।’ নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই সময় ম্যাচটি ৪০ মিনিট স্থগিত রাখা হয়। দেখি তোকে পুলিশ পাহারা দিয়ে বের করতে পারে কি না। তাঁদের একজনের রেফারিদের প্রতি হুমকির ভাষা ছিল এমন, ‘আজ এখান থেকে বের হতে পারবে না।

ম্যাচ পুনরায় শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর ফাউলের প্রতিবাদ জানিয়ে রেফারিকে লক্ষ্য করে চিৎকার করায় মামোরের এক খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এর এক মিনিট পরই প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার অভিযোগে উবেরলান্দিয়ার আরও এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এথেন্সকে স্তব্ধ করে রিয়ালকে জেতালেন ভালভের্দে।

পুরো ম্যাচে রেফারির রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৪০ জন খেলোয়াড়, ৮ জন কোচিং স্টাফ এবং ২ জন ক্লাব কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মারামারির ঘটনা শুরুর আগেই রেফারি আরও তিনজনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জন সদস্য বহিষ্কারের তালিকায় পড়েন। এছাড়া উবেরলান্দিয়ার ছয়জন বলবয়ও হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে লাল কার্ড দেখেন দুই দলের মোট ৪৩ খেলোয়াড়, ৮ কোচিং স্টাফ এবং ২ জন ক্লাব অফিশিয়াল। দুই দলের স্কোয়াড এবং কোচিং স্টাফ থেকে বহিষ্কৃত অন্য ৪৬ জনের সঙ্গে সেই দুজনকেও ‘প্রতিপক্ষকে ঘুষি ও লাথি মারা’র দায়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমাদের ক্ষতি করতেই তোমরা এখানে এসেছ। সেই খেলোয়াড় বলছিলেন, ‘মশকরা করছেন নাকি। রেফারির ম্যাচ রিপোর্টে আরও বলা হয়, এক ক্লাব স্টাফ ‘দৌড়ে গিয়ে খেলোয়াড়দের লাথি মারতে শুরু করেন’ এবং ‘খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পর’ তিনি ‘মামোরে দলের পানি রাখার কুলার, ম্যাসাজের ব্যাগ এবং অন্য জিনিসপত্র স্টেডিয়ামের একটি নর্দমায় ছুড়ে ফেলেন’।

ম্যাচ রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, গোল উদ্‌যাপনের সময় মামোরের এক খেলোয়াড় উবেরলান্দিয়ার বেঞ্চের দিকে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন, যা থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত। লিভারপুলকে হারিয়ে ১৮ বছর পর জয় ফেনেরবাচের।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রেফারি মোদেস্তের পক্ষে শারীরিকভাবে প্রতিটি কার্ড দেখানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া ম্যাচের পর মামোরে দলের ড্রেসিংরুম ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, এর আগের সর্বোচ্চ ৩৬ লাল কার্ডের রেকর্ডটি ছিল ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব আতলেতিকো ক্লাইপোলে ও ভিক্টোরিয়া আরেভাসের মধ্যকার ম্যাচে। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এই ম্যাচ। রেফারির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। রেফারির বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় পুলিশের কাছে অভিযোগও করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর