রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন

উচ্চকক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে নতুন প্রস্তাব

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিশেষ কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব উঠে এসেছে। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এই বিশেষ কমিটির বৈঠকে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছে, ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষের ৫০ জন সদস্য সংসদীয় আসনের অনুপাতে এবং অন্য ৫০ জন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হবেন। বাকি পাঁচজন সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেবেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হতে পারে ১০৫।

শনিবার আয়োজিত এই দীর্ঘ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই আলোচনায় অংশ নেন আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা। কমিটি ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানালেও উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন সদস্য। বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই উচ্চকক্ষ গঠনের এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, তার প্রস্তাবে অনেকে সমর্থন জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন।

বৈঠকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবটিও গুরুত্ব পেয়েছে। একজন শিক্ষাবিদ প্রস্তাব করেন, উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তার নেতৃত্বেই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। এছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতার ভিত্তিতে অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শও উঠে এসেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করারও একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্বাচিত সংসদ সব সময় সক্রিয় থাকবে। সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ চলছে এবং কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকের আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়েও ঐকমত্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা ভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, প্রশাসনিক জটিলতা, আইন প্রণয়ন এবং বিচারিক পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগে নতুন আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের এখতিয়ারের উদাহরণ টেনে সদস্যরা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।

কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শনিবারের বৈঠকটি এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল। ভবিষ্যতে আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর