আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সড়কের উভয় পার্শ্বে, পতিত জমিতে তিল চাষে সফলতা পেতে যাচ্ছে তিল চাষীরা। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার দুই ধারে শোভা পাচ্ছে তিল ক্ষেতের মনোরম দৃশ্য। উপজেলার ৫নং মদনখালী,৬নং টুকুরিয়া ও ৭ নং বড় আলমপুর ইউনিয়নের সকল কাঁচা-পাকা রাস্তার উভয় পার্শ্বে পতিত স্লোপার অংশে নিজ নিজ জমির সীমানায় বিনা চাষে তিল চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এলাকার কৃষকরা। একেবারে বিনা খরচে ওই তিল চাষে লাভজনক কৃষি প্রমাণ করেছেন এলাকার কৃষক। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাম্পার ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঠাকুরদাস লক্ষিপুর, উল্লাগাড়ী,কাশিপুর,বাবনপুর,জাফরপাড়া, কাদিরাবাদ,হাসারপাড়া,খয়েরবাড়ি ও বড় ফলিয়া গ্রামের রাস্তার দু’ধারের তিলের আবাদগুলি নজরকাড়া হয়েছে। তিল গাছগুলি এখন ফুলে-ফলে ভরপুর শোভা পাচ্ছে। উল্লাগাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মন্ডল জানালেন, “পাকা রাস্তার উভয় পার্শ্বে আমার চার বিঘা জমির সীমানায় প্রতি বছরের মত এবারও তিল চাষ করেছি। বিগত বছরগুলির চেয়ে এ বছর ফলন অনেক ভাল হয়েছে,তিলের দামও অনেক বেশী।”
বাবনপুরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, “কাঁচা-পাকা রাস্তায় আমার তিনবিঘা জমির সীমানায় তিল চাষ করেছি। তিল চাষে খরচ নেই বললেই চলে। কোন রোগ-বালাই নেই,সার,ঔষধ লাগে না,এমনকি গরু-ছাগল তিল গাছ খায় না, তাই আবাদ অনেক ভাল ও নিরাপদ হয়। প্রতি বছর ৫/৬ মন তিল পেয়ে থাকি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, ” তিল এমন একটি লাভজনক কৃষি, যাঁরা রাস্তায় তিল চাষ করেন-তাঁদেরকে অন্যান্য পতিত জমিতে তিল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।তিল একটি অর্থকরী ফসল,তিলচাষে তেমন কোন খরচ নেই।সে কারণে আমরা তিল চাষে কৃষদের উৎসাহিত করছি।”
উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন গুলিতেও যাতে পরবর্তিতে তিল চাষ করা যায়,সে ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মোটিভিশন দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন ওই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে তিল চাষে কৃষিতে বিপ্লব ঘটতে পারে বলে মনে করেন এলাকার অভিজ্ঞমহল।
Leave a Reply