বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

মাগুরায় ক্রীড়া সংস্থায় স্থবিরতা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

মাগুরা জেলায় সরকারি ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কেবল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ ও প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত চার বছরে জেলার চারটি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং অপর চারটি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেনি। আড়াই বছর ধরে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর দেশের সব ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে ক্রিকেট, ফুটবল ও কাবাডির অনুশীলন চলছে। তবে এ সময় সেখানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় বন্ধ ছিল।

জেলায় মোট ১০টি ক্রীড়া সংস্থা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও একটি জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এছাড়া সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলায় একটি করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং সমসংখ্যক মহিলা ক্রীড়া সংস্থা রয়েছে। এসব সংস্থায় সর্বশেষ ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী চার বছর নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে সংস্থাগুলোতে স্থবিরতা গ্রাস করেছে। আইন অনুযায়ী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, দীর্ঘ চার বছর কোনো টুর্নামেন্ট না হওয়ায় সাধারণ পরিষদ গঠন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পরিষদ গঠনের জন্য সংস্থা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। শ্রীপুর সূর্যমুখী একাদশ ক্লাবের সভাপতি মো. হাসান আলী জানান, ২০১৬-১৭ সালের দিকে শেষবার উপজেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট ও ক্রীড়াসামগ্রী সহায়তা পেয়েছিলেন। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কারণ, সংস্থা আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সাধারণ পরিষদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন কাউন্সিলর বা সংগঠকেরা। তিনি বলেন, ২০১৬ কিংবা ১৭ সালের দিকে তৎকালীন ইউএনও শ্রীপুর উপজেলার আটটি ক্লাব নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলেন। তখন সব ক্লাবকে কিছু কিছু ক্রীড়াসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চার বছর মেয়াদি কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সব স্থবির। জেলা ক্রীড়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলায় ৮ জুন এবং মহম্মদপুর ও শ্রীপুর উপজেলায় ১২ সেপ্টেম্বর নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে এনএসসি। তবে মাগুরা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মারুফ হোসেন অভিযোগ করেন, কমিটি অনুমোদিত হলেও সভাপতি হিসেবে ইউএনও কোনো সভা আহ্বান করেননি, ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা ক্রীড়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এনএসসি থেকে মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য ২০২৬ সালের ৮ জুন এবং মহম্মদপুর ও শ্রীপুর উপজেলার জন্য ১২ সেপ্টেম্বর নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি বা অন্য কোনো বিষয়ে তাঁরা অগ্রসর হতে পারছেন না। সংস্থার সভাপতি মনোনয়নের বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থার দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার চিত্র আরও করুণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এসব সংস্থায় কোনো অ্যাডহক কমিটিও গঠন করা হয়নি। স্থানীয় এক নারী ক্রীড়াবিদের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে মাগুরায় মেয়েদের জন্য খেলার মাঠ বা ইনডোর স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত সুযোগ নেই, ফলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা ঝরে পড়ছে। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্না জানান, জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ধীরগতির। এসব কারণে ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলার বেশির ভাগ মেয়ে ঝরে পড়ে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ সাধারণ সভা হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গত সাত বছরে হাতেগোনা কয়েকটি লিগ হলেও বার্ষিক ক্রীড়াপঞ্জি অনুযায়ী ২০টি ইভেন্ট আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

গত ২৪ মে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় এবং তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়।

তবে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত চিঠিতে অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা ও নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাগুরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোতাকাব্বীর আহমেদ জানিয়েছেন, উপজেলা কমিটি ছাড়া জেলা সংস্থার নির্বাচন সম্ভব নয়। উপজেলা পর্যায়ের অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর