বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন

নির্বাচন পরবর্তী ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু জোরালো সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সামরিক বাহিনী এই সম্ভাব্য অভিযানের জন্য মহড়া জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে হামলার কৌশল নিয়ে অনুশীলন করা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে, হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিমান উড়িয়ে হামলার কৌশলও অনুশীলন করা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানে কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চূড়ান্তভাবে এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। যদিও অক্টোবরের শেষদিকে হামলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না এবং দেশটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এ ধরনের বড় ধরনের আক্রমণ ইরানের অর্থনীতিকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেহরানকে কূটনৈতিক পর্যায়ে ছাড় দিতে বাধ্য করাই এমন পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি কর্মকর্তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন মাত্র; বাস্তবে হামলার পরিণাম বা ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঠিক কবে এ হামলা চালানো হতে পারে, তা জানায়নি গণমাধ্যমটি।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করেছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন করে সামরিক অভিযানের বিষয়টি স্থান পেয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এই বৈঠকে হামলার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতির এই খবরটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। যদিও হামলা না চালানোর পূর্বঘোষণা ছিল, তবুও সামরিক মহড়া ও কৌশলগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর