বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

ডিভি লটারি পুনরায় চালুর আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের স্থগিতাদেশের আবেদন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচি পুনরায় চালু করার আইনি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সঙ্গে আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় বিচারক জিনসুক ওহতার দেয়া পূর্বের নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করা হয়েছে। এর ফলে ডিভি লটারি চালুর যে আইনি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিচারক জানান, এটি কার্যকরভাবে কর্মসূচিটি বাতিল করার শামিল, কারণ লটারিতে অংশ নেয়া ছাড়া কেউ ডাইভারসিটি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা একটি মামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়াসহ পুরো কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিবাসন বিষয়ক আইনি প্রতিষ্ঠান রেড ইগল ল, এল.সি.-এর দায়ের করা ওই মামলার রায়ে বিচারক প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে কম অভিবাসনের হার রয়েছে—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেয়া হয়ে থাকে। গত ১৯শে অক্টোবর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারক ওহতার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দাখিল করে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭ এর আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিল, পরিস্থিতি বাস্তবসম্মত হওয়ামাত্রই নিবন্ধনের তারিখ জানানো হবে। তবে ১লা অক্টোবর ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়ে গেলেও নিবন্ধন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। বিচারক জিনসুক ওহতা তার পর্যবেক্ষণমূলক রায়ে উল্লেখ করেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু না করা কার্যত কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেয়ারই শামিল। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন সাময়িক স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত করল, তার কোনো ব্যাখ্যা না দেয়ায় আদালত বিষয়টিকে খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে।

আদালতের মতে, রেড ইগল ল তাদের মামলার প্রাথমিক শর্তগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। লটারি বন্ধ থাকলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক হারাবে এবং অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বিচারক স্পষ্টভাবে জানান, কর্মসূচি চালু করলে সরকারের ওপর বাড়তি কোনো বোঝা পড়বে না, বরং এটি কেন্দ্রীয় আইন মেনে চলার মাধ্যমেই জনস্বার্থ রক্ষা করবে। এদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে নিবন্ধনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় আদালত লটারি শুরুর আদেশ দিতে পারে না। বিচারক সেই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে জানান, বিলম্বে নিবন্ধন শুরু হলেও তা কংগ্রেসের আইন মেনেই পরিচালিত হবে।

আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যদি শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়, তবে আদালতের অনুমোদিত নতুন সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের সময়কাল ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া ১লা নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা এবং নির্বাচিতদের ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর