বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তা না করে নেতার বাড়ির পথ পাকা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

ভোলা জেলার চরফ্যাশনে একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের যাতায়াত সহজ করার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে চরমাদ্রাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেখানো হলেও, বাস্তবে সেই অর্থে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বাড়ির প্রবেশপথ সংস্কার করা হয়েছে। টিআর কর্মসূচির আওতায় এমন অনিয়ম স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে।

সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪শ মিটার রাস্তা সলিংকরণের জন্য ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের নির্দেশনায় স্পষ্ট ছিল যে, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামতগঞ্জ বাজারের মূল সড়ক থেকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তাটি আগের মতোই কর্দমাক্ত ও চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ বরাদ্দের টাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন শাহিন মালতিয়ার বাড়ির রাস্তাটি পাকা করা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দুই ধাপে ৪০০ মিটার রাস্তার সলিংকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে কেরামতগঞ্জ বাজারের পাশে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই কাদামাখা পথ দিয়ে হাসপাতালে আনা-নেওয়া করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই চরম ভোগান্তি সহ্য করতে না পেরে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার সবুজ, যিনি এলাকায় ‘ব্যাটারি সবুজ’ নামে পরিচিত, কোনো সদুত্তর দেননি। তিনি উল্টো দায়সারাভাবে বলেছেন যে, আগের বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিজের পকেট থেকে হাসপাতালের রাস্তা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওয়ালিউল ইসলাম বিষয়টি জানার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দিলেও তিনি তা কানে তোলেননি। অথচ প্রকল্প সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ার পরও সরকারি অর্থ কেন আটকে দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে তিনি নীরবতা পালন করেন। ঠিকাদারের এমন দায়সারা বক্তব্য ও পকেটের টাকা দিয়ে সরকারি হাসপাতালের রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই প্রমাণ করে যে, অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ না করে বরাদ্দের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে বারবার বলেছি, অন্য কিছু যা হয়েছে, অন্তত হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি যেন পাকা করা হয়।

প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, পুরো ঘটনাটি জানতে তাকে পিআইও ওয়ালিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধির স্বার্থে সাধারণের টাকা খরচ করার ঘটনায় স্থানীয়রা এখন নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছেন। দ্রুততম সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর