কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় অবস্থিত ‘টুকটুক’ নামের একটি কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোর সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন এই রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল সাতটা ২৩ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর আটটার দিকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি স্থাপনাটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সমুদ্রের পাশে হওয়ায় বাতাসে দ্রুত ছড়ায় আগুন, নেভানোর কিছুই ছিল না রিসোর্টে।
এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে, তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন। আগুনের সময় রিসোর্টটির তিনতলার দুটি শৌচাগার থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাল ছিল মাত্র সাত-আট মাস আগে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন ঢাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহতদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) এবং তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯) রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নয়জন পর্যটক গত বৃহস্পতিবার বেড়াতে এসেছিলেন এবং আজ শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় তাদের ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আমিনুল ইসলাম নামের এক স্বজন জানান, তার তিন বোনের পাঁচ সন্তান এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের বাইরে থাকায় দুজন সদস্য বেঁচে গেছেন, তারাই ঘটনার পর খবর দেন। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। কান্নাজড়িত কথাগুলো বলছিলেন আমিনুল ইসলাম। এ খবর শুনে তিনি ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজারে এসেছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, রিসোর্টটিতে কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা হোসপাইপ ছিল না। এমনকি তাদের কোনো ফায়ার লাইসেন্সও নেই। এছাড়া রিসোর্টের জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগুনের তীব্রতায় কাঠের তৈরি স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার।
Leave a Reply