বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান নিয়ে বিরোধে দুইজনের মৃত্যু : আটক ২

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ সময় দেখুন

কক্সবাজার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চার ব্যক্তিকে পাহাড়ে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর ওরফে আব্বুয়া (৩০) নামের দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ। নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে এবং আলী আকবর একই এলাকার কালু ফকিরের সন্তান।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সময়ে একই এলাকার লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে দুপুর দেড়টার দিকে দ্বিতীয় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার ইলিয়াস (৩৫) ও আলী আহমদ (৪০) নামে দুই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

আহত ইলিয়াস জানান, আটজনের একটি সিন্ডিকেট বিজিবির চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে ইয়াবার একটি চালান পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। পথে অন্য একটি ডাকাত দল প্রায় ১০ কাট বা এক লাখ পিস ইয়াবা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে সিন্ডিকেটটি ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে পারলেও বাকি ৩০ হাজার পিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মাদক আত্মসাতের অভিযোগে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের চারজনকে বিচারের কথা বলে সোমবার রাতে হ্নীলার একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চালানটিতে আনুমানিক ১০ কাট (এক লাখ পিস) ইয়াবা ছিল। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের সাত কাট (৭০ হাজার পিস) উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি তিন কাট (৩০ হাজার পিস) মাদকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইলিয়াসের দাবি, হ্নীলার স্থানীয় এক মাদক কারবারির মালিকানাধীন ছিল ওই ইয়াবার চালানটি। পাহাড়ে নিয়ে তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে মোক্তার কামালের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাদক ব্যবসার বিরোধ থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকৃতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর