রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা, ঝরল রক্ত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

ভারতের মণিপুর রাজ্যের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে দ্রুত শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

সহিংসতার সূচনা হয় শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে। স্থানীয় পুলিশের দাবি, চাসাদে অবৈধ বাংকার উচ্ছেদে পুলিশ, বিএসএফ ও ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানের সময় স্থানীয় নারীরা বাধা দেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালালে তারা পাল্টা গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের ডমখোনেই তোথাং নামের এক নারী নিহত হন। একই রাতে ওই এলাকায় আরও গোলাগুলি হয় এবং কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের ১৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কুকি উইমেন ইউনিয়নের অভিযোগ, এ ঘটনার সময় নাগা বিদ্রোহীরা মাইকেল গামিনলেন হাওকিপ নামের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যা করেছে। এ সময় স্থানীয় নারীরা অভিযান ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। সেদিন রাতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাচুংগাম্মাম, আজিনপৌ রিংকাংমাই ও রবার্ট। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আজিনপৌ রিংকাংমাইয়ের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে চাসাদ থানায় হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে এবং ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত দফায় দফায় গোলাগুলি চলে। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থানার চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। কামজং জেলার নিংচৌ চিনডং গ্রামে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুই নাগা গ্রামরক্ষক গাচানসো নিংশেন (৩০) ও লেইশিশান হুঙিয়ো (৫০) প্রাণ হারান। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তের ওপার থেকে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, চাসাদ গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদের গ্রেপ্তার ও আটকাদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কামজং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থানার চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকায় মানুষ জড়ো হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চাসাদের প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নিংচৌ চিনডং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

মাকুই গ্রামে ভোরে আরও তিন গ্রামরক্ষক নিহত হন। এ ঘটনায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। হতাহতদের পরিচয় এমন

  1. তিনি থালোন গ্রামের বাসিন্দা। আহত দুজন হলেন নাহাসন
  2. ও মাথাংগামবৌ
  3. ওই এলাকায় দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলি চলেছে।

কাংপোকপি জেলার তাপোন গ্রামে গতকাল সকালে হামলার ঘটনায় মাচুংওয়াংবৌ (৩৫) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। একই এলাকায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র কুকিদের অতর্কিত হামলায় তিনি প্রাণ হারান এবং দুজন আহত হন। এছাড়া উখরুল জেলার ২০২ নম্বর জাতীয় মহাসড়কে কনজাং গ্রামের কাছে গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো অতর্কিত হামলায় সন্দীপ রাই (৩০) নামের এক যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর