বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

টেন্ডার নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা : র‍্যাব

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সালাউদ্দিন বদি, সাজ্জাদ এবং আরিফুজ্জামান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

র‍্যাব বলছে, হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে স্থানীয় রুবেল ও মোনায়েম গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। এ দ্বন্দের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখাতে মালেয়শিয়ায় অবস্থানরত রুবেলের নির্দেশে ২০ হাজার টাকায় ২-৩ জন সন্ত্রাসী ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএম ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন দেখে এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বিদেশে অবস্থান করলেও তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর