ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস থাকার সুখবর দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। উপজেলায় পরিষদে সংসদ সদস্যদের অফিস পাওয়ার খবর পেয়ে চলাচলের জন্য গাড়িও চাইলেন কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এ খবর পেয়ে আলোচনায় দাঁড়িয়ে হাসনাত গাড়ির দাবি করেন। অধিবেশনের ১৮তম দিন সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্যদের সুখবর দিতে আমি এখন দাঁড়িয়েছি। আজ সরকারের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) এসেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেক এমপির (সংসদ সদস্য) বসার জন্য প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একটি করে অফিসকক্ষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। অতিদ্রুত আমরা এ কাজ শুরু করব। যেসব সংসদীয় আসনে একাধিক উপজেলা রয়েছে। সেসব আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য সব উপজেলাতেই এ অফিস থাকবে বলেও জানান তিনি।
এরপর সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাঙ্ক ইউ জানাচ্ছি, একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না, এখন এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। সেটা হচ্ছে, আমাদের ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আপনাদের যদিও আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না। আমরা এটা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। এখন আমাদের যদি একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেযন, তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়। মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আজ এমপিদের প্রাপ্তির পরে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, আমাদের পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে প্রথমেই দুইটা অনুশাসন দিয়েছেন যে, আমরা এমপিরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ সুবিধা নেব না। সেই হিসেবে তিনি অনুশাসন দিয়েছেন। একটা আইন আছে এটা সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংসদ সচিবালয় থেকেই লিড করবে। এই আইনে আমরা একটা সংশোধনী আনব যে এই মহান জাতীয় সংসদের কোনও সদস্য আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। এইটা সংসদ সদস্য বাদে বাকি সবাই তালি দিছে, কিন্তু সংসদ সদস্যগণ নয়। শুধু বাংলাদেশের এই সরকারের সমস্ত মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা যারা গাড়ি পায় তেল পায় সেটা আমরা কেবিনেটে একটা ডিসিশন নিয়ে ইতোপূর্বে আপনারা নিশ্চয়ই নিউজ পেপারে দেখেছেন। এই ক্রাইসিসের সময় শতকরা ৩০ শতাংশ তেলের বরাদ্দ আমরা কমিয়ে দিয়েছি এবং কৃচ্ছতা সাধনের উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের আপাতত লোন সুবিধা যেগুলো আছে সেটাও কাটেল করা হয়েছে ফর দ্য টাইম। এই সমস্ত এগুলো আমরা সবই জনবান্ধব এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী যাচ্ছি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী। মাননীয় সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। তো সেই জন্য কিভাবে কি করা যায় সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা সেটা আলাদাভাবে আলাপ আলোচনা করে সরকারি দল বিরোধী দল একটা বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমিও আজকে ধন্যবাদ দিতে দাঁড়ালাম। কারণ বিরোধী দলেরই একজন সদস্য এই দাবিটা সামনে এনেছিলেন। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে এটাকে কগনিজেন্সে নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে একটা কথা আছে। যে ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই। তাদের আবদারে সবসময় হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে সাথে সাথে না না বললে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যে এত বড় খবরের পরে বিরোধী দল থেকে কিছু মিষ্টি খাওয়ায় দিব। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি, পারলাম না। একটা ধাক্কা খাইলাম।
এ সময় স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার শেষ লাইনে বলেছেন যে এটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন।
Leave a Reply