সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিষয়ে জাতীয় সংসদকে অবহিত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কবে দেশে আনা হবে এবং বর্তমানে কোথায় রয়েছেন—সেসব বিষয়ে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন। বেনজীর আহমেদকে অতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য নিয়োজিত পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বেনজীরকে গ্রেপ্তারে অনুরোধ জানানো হয়।

মন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে ইমেইলের মাধ্যমে সাবেক আইজি বেনজীরকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে। ইমেইলে বলা হয়, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানেই তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন।

কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে— এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে—ইউএই ফেডারেল ল-এর ২০১৬ সালের ৩৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুদকের মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

এর আগে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সদরদপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের (ইন্টারপোল) সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর